মিসইনফরমেশনকে নির্মূল ও অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪৮  

আমরা গুজব ও অপতথ্যমুক্ত গণমাধ্যমের প্রত্যাশা করে অর্ধসত্য বা একপাক্ষিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যেনো সমালোচনার ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। তিনি জানিয়েছেন, গুজব, অর্ধ সত্য তথ্য গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, সরকার, রাজনীতির কোনও কল্যাণে আসে না। বলেছেন, আমরা গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা চাই, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই। আমরা দিন শেষে চাই গুজব বা রিউমারমুক্ত গণমাধ্যম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এটকো নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা বা ক্রিটিসিজমের সুযোগ থাকতে হবে আমরা এটা চাই। তবে সেই ক্রিটিসিজম যেন সঠিক তথ্যের ওপর হয়, সেই বিষয়ে আমরা জোর দিতে চাই।

আরাফাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এক ধরনের অপচেষ্টা চলে। গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের যে বিস্তৃতি ঘটেছে সেখানে কীভাবে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যায় এবং শৃঙ্খলা আনা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। প্রথমেই সতর্ক থাকতে হবে, আমরা যেমন মিসইনফরমেশনকে নির্মূল করতে চাই, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই কিন্তু সেটি করতে গিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সেখানে যেন ওভারস্টেপ না হয়। তবে দেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৩০ লাখ শহিদদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। এগুলো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড।

তিনি আরো বলেন, প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা হবে। কিছু সমালোচনা হয় সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। সেখান থেকে আমরা আমাদের যে ধরনের ব্যর্থতা বা বিচ্যুতি আছে সেটা জেনে নেওয়ার পর সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্রিটিসিজমের বিপক্ষে না। কিন্তু উনি চান ক্রিটিসিজম হোক সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। অনেক সময় মিথ্যা তথ্যের চেয়ে অর্ধসত্য তথ্য অনেক বিপদজনক। পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে না ধরে পারসিয়াল একটা ইনফরমেশনের ওপর ভিত্তি করলে অডিয়েন্স কিন্তু বিভ্রান্ত হয়।

মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, গণমাধ্যম সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনবে এটাই কাম্য এবং আমরা জবাব দেবো। একই সঙ্গে গণমাধ্যম বা অন্য কিছুকে ব্যবহার করে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা করলে, সেটাকে আমরা সবাই মিলে একটা সলিট স্ট্রাকচারের মাধ্যমে জবাবদিহিতায় আনতে পারি এবং সেটা করতে পারি সে বিষয়ে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র এবং অগ্রগতির স্বার্থে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়া খুবই জরুরি। ঠিক একইভাবে ক্ষতিকর অপতথ্য এবং তার বিস্তৃতি ও বিস্তার। মানুষের কোনও কল্যাণে আসে না, কোনও ধরনের মিস ইনফরমেশন। কোনও গুজব বা কোনও অর্ধ সত্য গণতন্ত্রের কল্যাণে আসে না, গণমাধ্যমের কোনও কল্যাণে আসে না। সরকার, রাজনীতির কোনও কিছুর কল্যাণে আসে না।